---
title: "দোকানের টাকা আর ঘরের টাকা আলাদা রাখুন"
source: https://www.lskhata.com/blog/dokaner-taka-ghorer-taka
category: "Running a shop"
language: bn
published: 2026-08-20
reading_time: 5 min
---

# দোকানের টাকা আর ঘরের টাকা আলাদা রাখুন

_একই পকেট থেকে দোকানের মাল আর ঘরের বাজার — দুটোই হলে মাসের শেষে কোনটা কোথায় গেল বলা অসম্ভব।_

## In short
- দোকানের টাকা আর নিজের টাকা এক জায়গায় রাখলে কোনো হিসাবই সঠিক হয় না।
- নিজের জন্য টাকা নেওয়া দোষের নয় — সেটা না লেখাটাই সমস্যা।
- প্রতি মাসে নিজের জন্য একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক ঠিক করুন, যেমন কর্মচারীর বেতন।
- বাক্স থেকে টাকা তুললে সেটা খরচ হিসেবে লিখুন, তখনই।

ছোট দোকানে সবচেয়ে সাধারণ হিসাবের সমস্যা চুরি নয়, ভুল লেখা নয় — একটাই পকেট।

সকালে বাক্স থেকে পাঁচশো টাকা বেরোয় ছেলের স্কুলের জন্য। দুপুরে দুশো টাকা যায় নিজের খাওয়ায়। বিকেলে ঘরের জন্য এক প্যাকেট চাল তাক থেকে চলে যায়। কোনোটাই অন্যায় নয়, আর কোনোটাই লেখা হয় না।

_[Figure: একই পকেট হলে মাসের শেষে কোনো প্রশ্নেরই উত্তর নেই।]_

### কী কী গুলিয়ে যায়

এক পকেট হলে তিনটে আলাদা প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে হারায়, আর তিনটেই জরুরি।

- দোকান আসলে লাভ করছে কিনা — ঘরের খরচ মেশানো থাকলে বলা যায় না।
- আপনি নিজে মাসে কত নিচ্ছেন — জানা না থাকলে বেশি নিচ্ছেন কিনা বোঝা যায় না।
- স্টক ঠিক আছে কিনা — ঘরে যাওয়া মাল না লিখলে গণনা কখনো মিলবে না।

### যা করলে ঠিক হয়ে যায়

1. **নিজের জন্য একটা অঙ্ক ঠিক করুন** — মাসে কত টাকা আপনার নিজের, সেটা আগে থেকেই ঠিক করুন। সংখ্যাটা যা-ই হোক, থাকা দরকার।
2. **মাসের একটা দিনে সেটা বার করুন** — বেতনের মতো। রোজ একটু একটু করে নিলে হিসাব রাখা যায় না।
3. **মাঝখানের টাকা তখনই লিখুন** — জরুরি দরকারে টাকা নিতেই হয়। নেওয়ার সময়েই এক লাইন লিখুন — পরে মনে থাকে না।
4. **ঘরে যাওয়া মাল কেনা দামে লিখুন** — বিক্রি হিসেবে নয়, খরচ হিসেবে। তাহলে স্টকও মেলে, লাভের হিসাবও ঠিক থাকে।

**"পরে লিখব" বলে রাখবেন না.** দিনের শেষে মনে করে লেখা যায় না, কারণ ছোট টাকাগুলোই মনে থাকে না। আর ছোট টাকাগুলোই মাসের শেষে বড় ফারাক তৈরি করে।

### এতে কী বদলায়

প্রথম মাসেই একটা জিনিস পরিষ্কার হয় — আপনি নিজে দোকান থেকে মাসে ঠিক কত নিচ্ছেন। বেশিরভাগ দোকানদার এই সংখ্যাটা আন্দাজ করেন, আর আন্দাজটা প্রায় সবসময় বাস্তবের চেয়ে কম হয়।

সংখ্যাটা জানা মানে খারাপ কিছু নয়। জানা থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় — এই মাসে কম নেব, নাকি দোকান থেকে বেশি আসা দরকার। না জানলে কোনো সিদ্ধান্তই নেওয়া যায় না।

## Common questions

**দোকান তো আমারই, নিজের টাকা নেব না কেন?**

নেবেনই — প্রশ্নটা নেওয়া নিয়ে নয়, লেখা নিয়ে। আপনি যখন বাক্স থেকে দু হাজার টাকা নেন এবং সেটা কোথাও লেখা থাকে না, তখন মাসের শেষে দোকানের হিসাবে দু হাজার টাকা কম দেখায়, কারণ নেই। তখন মনে হয় বিক্রি কমেছে বা কোথাও গণ্ডগোল হয়েছে। টাকাটা নেওয়া সমস্যা নয়, না জানা সমস্যা।

**আলাদা করব কীভাবে?**

সবচেয়ে সহজ উপায় হল মাসে একবার নিজের জন্য একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক বের করে নেওয়া, ঠিক যেমন কর্মচারীর বেতন দেন। মাঝখানে টাকা লাগলে সেটাও নিন, কিন্তু প্রতিবার লিখুন। ব্যাঙ্কের হিসাব আলাদা রাখতে পারলে আরও ভালো, তবে সেটা না করলেও লিখে রাখলেই বেশিরভাগ সমস্যা মিটে যায়।

**ঘরের বাজার দোকান থেকে নিলে?**

সেটাও লিখুন, কেনা দামে। দোকান থেকে নিজের ঘরের জন্য তেল-চাল নেওয়া খুব স্বাভাবিক, কিন্তু না লিখলে স্টকের হিসাব মিলবে না — খাতায় মাল আছে, তাকে নেই। মাসের শেষে সেটা দেখতে চুরির মতো লাগে, যদিও তা নয়।
