ধার দেওয়া দোকানের অংশ। যে দোকানদার একেবারেই ধার দেয় না, সে তার অর্ধেক নিয়মিত খদ্দের পাশের দোকানকে দিয়ে দেয়। আসল সমস্যা ধার দেওয়ায় নয় — ফেরত চাওয়ায়, আর সেটাও এই কারণে যে বেশিরভাগ দোকানে চাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট নিয়মই নেই।
নিয়ম না থাকলে আদায় মেজাজে চলে। মাসের পর মাস কিছু বলা হয় না, তারপর কোনো একদিন টাকার টানাটানিতে সরাসরি তাগাদা হয়ে যায়। খদ্দেরের কাছে সেটা হঠাৎ আসা অভিযোগ, আপনার কাছে তিন মাসের জমা রাগ। দুজনেই নিজের জায়গায় ঠিক, আর সম্পর্কটা সেখানেই ভাঙে।
তিনটে ধাপ, প্রত্যেকটার আলাদা কাজ
নিচের ক্রমটা কোনো আইন নয়, কিন্তু এর গঠনটা জরুরি: প্রতিটি ধাপে বার্তার সুর এক ধাপ এগোয়, আর এই এগোনোটা আগে থেকে ঠিক করা — সেদিন আপনার মন কেমন আছে তার উপর নয়।
- 1
দিন ৭ — শুধু খবর
টাকার অঙ্ক আর তারিখ লেখা একটা ছোট বার্তা, কোনো দাবি ছাড়া। "নমস্কার, ৪ তারিখের ১,২০০ টাকা বাকি আছে। ধন্যবাদ।" এটুকুই। বেশিরভাগ টাকা এই ধাপেই চলে আসে, কারণ আসল কারণ ভুলে যাওয়া, না দেওয়ার ইচ্ছা নয়।
- 2
দিন ১৫ — তারিখ ঠিক করুন
এবার টাকার কথা নয়, তারিখের কথা জিজ্ঞাসা করুন: "কবে নাগাদ হবে?" এতে খদ্দের হ্যাঁ-না নয়, একটা দিন বলতে বাধ্য হয়। সে যে তারিখ বলবে সেটা খাতায় লিখে রাখুন — পরেরবার কথা সেই তারিখ থেকেই শুরু হবে।
- 3
দিন ৩০ — সামনাসামনি
তিরিশ দিনের পরে বার্তার বদলে কথা, আর সেটাও আড়ালে — অন্য খদ্দেরের সামনে কখনও নয়। এখানে লক্ষ্য পুরো টাকা নয়, কিছু অংশ আর একটা পরিষ্কার পরিকল্পনা। আজ অর্ধেক আর পরের সপ্তাহে অর্ধেক, তারিখ সহ, কিছু না আসার চেয়ে অনেক ভালো।
- 4
যা আসে, তখনই লিখুন
যা-ই আসুক, সেই মুহূর্তেই খাতায় তুলুন আর খদ্দেরকে স্ক্রিন দেখান। যে অঙ্ক দুজনে সেই দিন দেখে নিয়েছে, তা পরে তর্কের বিষয় হয় না।
মোট নয়, বয়স দেখুন
"মোট বাকি ৭২,০০০ টাকা" একটা সংখ্যা, আর এটা আপনাকে কিছুই বলে না। সেই একই টাকা বয়স অনুযায়ী ভাগ করলে সেটা বলে দেয় কাল সকালে কাকে ফোন করতে হবে।
| কত পুরনো | মানে কী | কী করবেন |
|---|---|---|
| ০ – ৩০ দিন | সাধারণ কারবার | বিশেষ কিছু না, লেখা থাকলেই হল |
| ৩১ – ৬০ দিন | ভুলে গেছে | তারিখ ঠিক করান |
| ৬১ – ৯০ দিন | এড়িয়ে যাচ্ছে | সামনাসামনি, কিছু অংশ নিন |
| ৯০ দিনের বেশি | নিজে থেকে আসবে না | কিস্তি বাঁধুন, নতুন ধার বন্ধ |
খেয়াল করুন, সবচেয়ে বড় টাকা প্রায়ই সবচেয়ে পুরনো নয়। এই দুটোকে একসঙ্গে দেখাই সেই জায়গা যেখানে বেশিরভাগ দোকানদার ভুল খদ্দেরকে ফোন করে বসেন।
খাতা অ্যাপে প্রত্যেক খদ্দেরের বাকি আর তার তারিখ দুটোই থাকে, তাই এই ভাগটা হাতে যোগ না করেই হয়ে যায়। আপনি এখনও কাগজের খাতায় থাকলে একটা কাগজে এই চারটে ঘর বানিয়ে নিন — পদ্ধতি একই, খাটনি একটু বেশি।
নম্বর ছাড়া মনে করানো মানে সংঘাত
এই জিনিসটাই সবচেয়ে বেশি বাদ পড়ে। খদ্দেরের ফোন নম্বর আপনার কাছে না থাকলে মনে করানোর একটাই উপায় থাকে — সে দোকানে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা আর তখন বলা। অর্থাৎ প্রতিটি মনে করানো অন্য কারও সামনে, আর ঠিক তখন যখন সে কিছু কিনতে এসেছে।
নম্বর থাকলে সেই একই কথা আড়ালে, সাক্ষী ছাড়া, আর এমন সময়ে হয় যখন সে পকেট দেখতে পারে। তাই নম্বর চাওয়ার সবচেয়ে ভালো মুহূর্ত সেটাই যখন আপনি প্রথমবার ধারটা লিখছেন — তখন কেউ না বলে না।
নম্বর ধারের অংশ, খদ্দেরের তথ্যের অংশ নয়।
যা করবেন না
- অন্য খদ্দেরের সামনে তাগাদা। এতে টাকা আসার সম্ভাবনা বাড়ে না, খদ্দের চলে যাওয়া নিশ্চিত হয়।
- তারিখ ছাড়া "তাড়াতাড়ি দিয়ে দিন"। যে কথায় তারিখ নেই, তা এড়াতে কোনো দাম দিতে হয় না।
- পুরনো বাকি থাকতে নতুন ধার বাড়িয়ে যাওয়া। অঙ্ক যত বড় হবে, খদ্দেরের পক্ষেও মুখোমুখি হওয়া তত কঠিন।
- প্রত্যেক খদ্দেরের জন্য আলাদা নিয়ম। যেদিন খদ্দেরের মনে হবে তার সঙ্গে আলাদা ব্যবহার হচ্ছে, কথা টাকা থেকে সরে সম্মানে চলে যাবে।
এই সপ্তাহে শুধু এইটুকু করুন: আপনার দশটা সবচেয়ে পুরনো বাকি বেছে নিন, প্রত্যেককে সেই ছোট খবরের বার্তাটা পাঠান, আর যা উত্তর আসে তা তারিখ সহ লিখে রাখুন। পরের সপ্তাহে আপনার কাছে দুটো জিনিস থাকবে যা আজ নেই — কিছু টাকা, আর কে উত্তর দেয় আর কে দেয় না সেই খবর। দ্বিতীয়টা প্রথমটার চেয়ে বেশি কাজে লাগবে।