মোবাইল বিলিংয়ে আসতে যেটা সবচেয়ে বেশি আটকায়, সেটা অ্যাপ নয়। সেটা এই ধারণা যে আগে পুরো স্টক তুলতে হবে — তিনশো, পাঁচশো, কখনও হাজার জিনিস, দাম সহ। কাজটা দুই সপ্তাহের মনে হয়, তাই কোনো ভালো দিনের জন্য পিছিয়ে যায়, আর সেই দিন কখনও আসে না।
ভালো খবর হল, তার দরকারই নেই। বিলিং অ্যাপ শুরু করতে একটা মাল, একটা দাম আর একজন খদ্দেরই যথেষ্ট।
আজই, দশ মিনিটে
- 1
দোকানের নাম আর নম্বর বসান
এটা প্রথম কাজ কারণ এটাই প্রতিটি বিলে ছাপা হয়। পরে বসালে মাঝের বিলগুলোয় আপনার দোকানের নাম থাকবে না, আর সেই বিলই খদ্দেরের ফোনে পড়ে থাকবে।
- 2
পরের খদ্দের আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন
এখন কিছু তুলবেন না। সে যা কিনবে, শুধু ততটুকুই নাম আর দাম সহ যোগ করুন। তিনটে জিনিস বিক্রি হলে তিনটেই যোগ হবে।
- 3
বিল বানিয়ে সেখানেই দেখান
মোট টাকা অ্যাপ যোগ করে, তাই যোগে ভুলের সুযোগ থাকে না। স্ক্রিনটা খদ্দেরের দিকে ঘুরিয়ে দিন — এই অভ্যাসটাই পরে হিসাব নিয়ে তর্ক শেষ করে দেয়।
- 4
হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিন
খদ্দেরের কাছে বিলের একটা কপি চলে যায় আর আপনার কাছে পাঠানোর রেকর্ড থেকে যায়। প্রিন্টারের সিদ্ধান্ত পরের জন্য রাখুন।
- 5
দুই সপ্তাহ দুটোই চালান
কাগজের রসিদ এখনই বন্ধ করবেন না। দুই সপ্তাহ পরে যখন দেখবেন প্রতিটি বিল অ্যাপে আছে আর মিলছে, তখন রসিদ নিজে থেকেই ছেড়ে যাবে — কোনো সিদ্ধান্তের দরকার হবে না।
দাম একবার, তারপর আর নয়
কোনো জিনিস প্রথমবার বিক্রি হলে নাম আর দাম টাইপ করতে হয় — তাতে দশ-পনেরো সেকেন্ড লাগে। দ্বিতীয়বার সেই জিনিস তালিকায় পাওয়া যায় আর শুধু বেছে নিতে হয়। তৃতীয় দিনের মধ্যে আপনার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া কুড়িটা জিনিস উপরে উঠে আসে, আর সেগুলোই আশি শতাংশ বিক্রি।
যেসব দোকানে বারকোড লাগানো মাল থাকে, সেখানে ফোনের ক্যামেরাই স্ক্যানারের কাজ করে দেয় — প্রথমবার স্ক্যান করে নাম-দাম যোগ করে দিন, তারপর প্রতিবার শুধু স্ক্যান।
নেটওয়ার্কের প্রশ্ন
এটা সত্যিকারের চিন্তা আর একে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অনেক দোকানে শাটারের ভিতরে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যায়, আর সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বেশি বসে — অর্থাৎ ঠিক তখনই যখন সবচেয়ে বেশি বিল হয়।
খাতা অ্যাপে বিল ফোনে তৈরি হয়, ফোনে সেভ হয়, আর নেট ফিরলে পিছনে পিছনে সিংক হয়ে যায়। মানে খদ্দেরকে অপেক্ষা করতে হয় না। এটা সুবিধা নয়, শর্ত — যে বিলিং সিগন্যালের উপর দাঁড়িয়ে, সেটা ভিড়ের সময় সবার আগে ধোঁকা দেয়।
আর শেষে একটা কথা, যেটা প্রযুক্তির নয় অভ্যাসের: প্রথম সপ্তাহে প্রতিটি বিল অ্যাপে বানান, খদ্দের তাড়াহুড়োয় থাকলেও। যেদিন একটা বিল বাদ যায়, সেদিন থেকেই দুটো অসম্পূর্ণ রেকর্ড তৈরি হতে শুরু করে — আর দুটো অসম্পূর্ণ রেকর্ড একটা সম্পূর্ণ রেকর্ডের চেয়ে সবসময় খারাপ।