যে দোকানেই স্টক গোনা হয়, সেখানেই একটা প্রশ্ন বারবার আসে: খাতায় একশো লেখা, গুনতে গিয়ে চুরানব্বই বেরোল। ছয়টা কোথায় গেল।
আর প্রায় প্রতিটি দোকানে এর প্রথম উত্তরটাও এক — কেউ নিয়ে গেছে হয়তো। এই উত্তরটা বিপজ্জনক কারণ এটাই সবচেয়ে কম বার সত্যি হয়, আর যেদিন ভুল লোকের উপর সন্দেহ যায় সেদিন যা ভাঙে তা স্টকের চেয়ে দামি।
চারটে পথ, আসল ক্রম অনুযায়ী
- বিল ছাড়া যাওয়া মাল — বাড়ির জন্য তুলে নেওয়া, নমুনা, চেনা কাউকে দেওয়া। বিক্রি হয়নি, তাই কমেওনি।
- না লেখা ফেরত — খদ্দের ফেরত দিল, তাক-এ ফিরে গেল, কিন্তু খাতায় ফিরল না। এটা উল্টোদিকের ফারাক আর সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে দেয়।
- ভাঙা আর নষ্ট — পড়ে গেছে, চুঁইয়েছে, তারিখ পেরিয়েছে। সরানো হয়েছে, কিন্তু লেখা হয়নি।
- চুরি — হয়, কিন্তু বাকি তিনটের তুলনায় কম। আর এটাই একমাত্র কারণ যা মেনে নেওয়ার আগে বাকি তিনটে বাদ দিয়ে নেওয়া উচিত।
এই চারটেতেই একটা জিনিস মিল: মাল সত্যিই বাইরে গেছে, শুধু লেখা হয়নি। এই কারণেই স্টকের ঘাটতি আসলে গোনার সমস্যার চেয়ে বেশি লেখার সমস্যা।
পুরো দোকান একসঙ্গে গুনবেন না
বছরে একবার পুরো দোকান গোনার পদ্ধতি দুই কারণে দুর্বল। প্রথমত, তাতে একটা গোটা দিন যায় আর ক্লান্তিতে গণনা নিজেই ভুল হতে থাকে। দ্বিতীয়ত, আর আরও জরুরি — যখন ফারাক ধরা পড়ে তখন সেটা এগারো মাসের পুরনো, আর এগারো মাসের পুরনো ফারাকের কারণ কারও মনে থাকে না।
- 1
প্রতি সপ্তাহে কুড়িটা জিনিস বেছে নিন
সবচেয়ে দামি আর সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি হওয়া মাল বারবার, বাকিগুলো পালা করে। কুড়িটা গুনতে কুড়ি মিনিট লাগে।
- 2
আগে গুনুন, তারপর খাতা দেখুন
খাতায় একশো লেখা আছে জানা থাকলে আপনি চুরানব্বই গুনেও আবার গুনবেন আর একশোতে পৌঁছে যাবেন। এটা অসাধুতা নয়, মাথার স্বাভাবিক কাজ — তাই ক্রমটা উল্টো রাখা জরুরি।
- 3
ফারাকের পাশে কারণ লিখুন
"৬ কম — ৩ ভেঙেছে, ২ নমুনা, ১ জানি না"। এই এক লাইনই গণনাকে হিসাব থেকে তথ্যে বদলে দেয়।
- 4
পরের সপ্তাহে সেই জিনিসই আবার গুনুন
ফারাক আবার না এলে সেটা একবারের ভুল ছিল। প্রতি সপ্তাহে সেই একই জিনিসে এলে এখন আপনার কাছে একটা ধারা আছে — আর ধারারই সমাধান হয়।
সংখ্যা ঠিক করা অর্ধেক কাজ
গোনার পরে খাতায় চুরানব্বই করে দেওয়া দরকার, কিন্তু সেখানেই থেমে যাওয়া সবচেয়ে সাধারণ ভুল। পরের মাস আসবে, সেই একই ফারাক আবার আসবে, আর আপনি আবার ঠিক করবেন। বছরে এটা ছয়-ছয় করে একটা বড় অঙ্ক হয়ে দাঁড়ায় যার কোনো হিসাব নেই।
কারণ লেখার আসল লাভ একটা গণনায় দেখা যায় না, তিনটেতে যায়। তিন মাসের কারণ পাশাপাশি রেখে দেখলে প্রায়ই একই জিনিস বারবার বেরোয় — একই সরবরাহকারীর মাল ভাঙে, বা একই শ্রেণিতে ফেরত লেখা হয় না।
এই শনিবার সকালে, দোকান খোলার আগে, শুধু আপনার কুড়িটা সবচেয়ে দামি জিনিস গুনুন। যে ফারাক পাবেন তার পাশে কারণ লিখুন — আর যেখানে কারণ জানা নেই, সেখানে "জানি না" লেখায় কোনো দোষ নেই। চার সপ্তাহ পরে প্রতিটি ফারাকের কারণ জানা না থাকলেও, কোন জিনিস বারবার কম বেরোয় সেটা নিশ্চয়ই জানা থাকবে।