Skip to content
Khataby Lacspace
স্টক ও টাকা

স্টক মেলানো: ঘাটতি কোথা থেকে আসছে

খাতায় একশো, গুনে চুরানব্বই। সেই ছয়টা কোথায় গেল — আর চুরি সেই তালিকায় সবার নিচে কেন।

6 মিনিটের পড়া

ফারাকখাতায়১০০ভাঙা বা নষ্টবিল ছাড়া গেছেফেরত লেখা হয়নিচুরিগুনে৯৪

সংক্ষেপে

  • ফারাক হওয়া স্বাভাবিক। ফারাকের কারণ না জানা স্বাভাবিক নয়।
  • পুরো দোকান একসঙ্গে গুনবেন না। প্রতি সপ্তাহে কুড়িটা জিনিস — বছরে সবটাই হয়ে যায়, দোকান একদিনও বন্ধ না করে।
  • চুরি শেষ কারণ, প্রথম নয়। বিল ছাড়া যাওয়া মাল আর না লেখা ফেরত এর চেয়ে অনেক বেশি সাধারণ।
  • গোনার পরে শুধু সংখ্যা ঠিক করা অর্ধেক কাজ। কারণ না লিখলে সেই ফারাক পরের মাসেও আসবে।

যে দোকানেই স্টক গোনা হয়, সেখানেই একটা প্রশ্ন বারবার আসে: খাতায় একশো লেখা, গুনতে গিয়ে চুরানব্বই বেরোল। ছয়টা কোথায় গেল।

আর প্রায় প্রতিটি দোকানে এর প্রথম উত্তরটাও এক — কেউ নিয়ে গেছে হয়তো। এই উত্তরটা বিপজ্জনক কারণ এটাই সবচেয়ে কম বার সত্যি হয়, আর যেদিন ভুল লোকের উপর সন্দেহ যায় সেদিন যা ভাঙে তা স্টকের চেয়ে দামি।

ছয়টা জিনিস চারটে পথে বেরোয়। চুরি তার একটা।মাঝখানে খাতার সংখ্যা একশো, চারদিকে চারটে পথ বেরোচ্ছে — ভাঙা, বিল ছাড়া যাওয়া, না লেখা ফেরত, আর চুরি। নিচে গোনা সংখ্যা চুরানব্বই।খাতায়১০০ভাঙা বা নষ্টবিল ছাড়া গেছেফেরত লেখা হয়নিচুরিগুনে৯৪
ছয়টা জিনিস চারটে পথে বেরোয়। চুরি তার একটা।

চারটে পথ, আসল ক্রম অনুযায়ী

  • বিল ছাড়া যাওয়া মাল — বাড়ির জন্য তুলে নেওয়া, নমুনা, চেনা কাউকে দেওয়া। বিক্রি হয়নি, তাই কমেওনি।
  • না লেখা ফেরত — খদ্দের ফেরত দিল, তাক-এ ফিরে গেল, কিন্তু খাতায় ফিরল না। এটা উল্টোদিকের ফারাক আর সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে দেয়।
  • ভাঙা আর নষ্ট — পড়ে গেছে, চুঁইয়েছে, তারিখ পেরিয়েছে। সরানো হয়েছে, কিন্তু লেখা হয়নি।
  • চুরি — হয়, কিন্তু বাকি তিনটের তুলনায় কম। আর এটাই একমাত্র কারণ যা মেনে নেওয়ার আগে বাকি তিনটে বাদ দিয়ে নেওয়া উচিত।

এই চারটেতেই একটা জিনিস মিল: মাল সত্যিই বাইরে গেছে, শুধু লেখা হয়নি। এই কারণেই স্টকের ঘাটতি আসলে গোনার সমস্যার চেয়ে বেশি লেখার সমস্যা।

পুরো দোকান একসঙ্গে গুনবেন না

বছরে একবার পুরো দোকান গোনার পদ্ধতি দুই কারণে দুর্বল। প্রথমত, তাতে একটা গোটা দিন যায় আর ক্লান্তিতে গণনা নিজেই ভুল হতে থাকে। দ্বিতীয়ত, আর আরও জরুরি — যখন ফারাক ধরা পড়ে তখন সেটা এগারো মাসের পুরনো, আর এগারো মাসের পুরনো ফারাকের কারণ কারও মনে থাকে না।

  1. 1

    প্রতি সপ্তাহে কুড়িটা জিনিস বেছে নিন

    সবচেয়ে দামি আর সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি হওয়া মাল বারবার, বাকিগুলো পালা করে। কুড়িটা গুনতে কুড়ি মিনিট লাগে।

  2. 2

    আগে গুনুন, তারপর খাতা দেখুন

    খাতায় একশো লেখা আছে জানা থাকলে আপনি চুরানব্বই গুনেও আবার গুনবেন আর একশোতে পৌঁছে যাবেন। এটা অসাধুতা নয়, মাথার স্বাভাবিক কাজ — তাই ক্রমটা উল্টো রাখা জরুরি।

  3. 3

    ফারাকের পাশে কারণ লিখুন

    "৬ কম — ৩ ভেঙেছে, ২ নমুনা, ১ জানি না"। এই এক লাইনই গণনাকে হিসাব থেকে তথ্যে বদলে দেয়।

  4. 4

    পরের সপ্তাহে সেই জিনিসই আবার গুনুন

    ফারাক আবার না এলে সেটা একবারের ভুল ছিল। প্রতি সপ্তাহে সেই একই জিনিসে এলে এখন আপনার কাছে একটা ধারা আছে — আর ধারারই সমাধান হয়।

সংখ্যা ঠিক করা অর্ধেক কাজ

গোনার পরে খাতায় চুরানব্বই করে দেওয়া দরকার, কিন্তু সেখানেই থেমে যাওয়া সবচেয়ে সাধারণ ভুল। পরের মাস আসবে, সেই একই ফারাক আবার আসবে, আর আপনি আবার ঠিক করবেন। বছরে এটা ছয়-ছয় করে একটা বড় অঙ্ক হয়ে দাঁড়ায় যার কোনো হিসাব নেই।

কারণ লেখার আসল লাভ একটা গণনায় দেখা যায় না, তিনটেতে যায়। তিন মাসের কারণ পাশাপাশি রেখে দেখলে প্রায়ই একই জিনিস বারবার বেরোয় — একই সরবরাহকারীর মাল ভাঙে, বা একই শ্রেণিতে ফেরত লেখা হয় না।

এই শনিবার সকালে, দোকান খোলার আগে, শুধু আপনার কুড়িটা সবচেয়ে দামি জিনিস গুনুন। যে ফারাক পাবেন তার পাশে কারণ লিখুন — আর যেখানে কারণ জানা নেই, সেখানে "জানি না" লেখায় কোনো দোষ নেই। চার সপ্তাহ পরে প্রতিটি ফারাকের কারণ জানা না থাকলেও, কোন জিনিস বারবার কম বেরোয় সেটা নিশ্চয়ই জানা থাকবে।

সাধারণ প্রশ্ন

স্টক কতবার গুনতে হয়?

পুরো দোকান বছরে এক-দুইবার, কিন্তু আসল কাজটা হয় সাপ্তাহিক গণনায় — প্রতি সপ্তাহে কুড়ি থেকে তিরিশটা জিনিস, পালা করে। এভাবে বছরে সবকিছু কয়েকবার গোনা হয়, দোকান একদিনও বন্ধ হয় না, আর ফারাক তখন ধরা পড়ে যখন তার কারণ এখনও মনে আছে।

সামান্য ফারাক হওয়া কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, প্রতিটি দোকানেই হয়। চিন্তার বিষয় ফারাক হওয়া নয়, কারণ ছাড়া ফারাক হওয়া। যে ফারাকের পাশে কারণ লেখা আছে সেটা তথ্য; যার পাশে কিছু লেখা নেই সেটা পরের মাসে আবার আসবে।

সবচেয়ে বেশি ঘাটতি কীসে হয়?

বেশিরভাগ দোকানে বিল ছাড়া যাওয়া মাল আর না লেখা ফেরত সবার উপরে থাকে — অর্থাৎ লেখার ভুল, চুরি নয়। তারপর আসে ভাঙা আর নষ্ট হওয়া। চুরি হয়, কিন্তু সেটা প্রথম দেখার জায়গা নয়, আর প্রথমে সেখানে দেখলে প্রায়ই নির্দোষ কারও উপর সন্দেহ যায়।

গোনার সময় দোকান বন্ধ করতে হবে?

পুরো দোকান একসঙ্গে গুনলে প্রায় করতেই হবে। তাই সপ্তাহে অল্প অল্প গোনা ভালো — সকালে খোলার আগে বা দুপুরের ঝিমুনিতে কুড়িটা জিনিস গুনতে কুড়ি মিনিট লাগে আর কোনো খদ্দের বাদ যায় না।

খাতা অ্যাপ বিনামূল্যে

বিলিং, ধারের খাতা, স্টক আর রিপোর্ট — সবই আপনার ফোনে। কার্ড লাগে না, বাতিল করার কিছু নেই।

কী কী পাবেন দেখুন

স্টকগণনাঘাটতিমালদোকান

এরপর পড়ুন

সব লেখা