বেশিরভাগ দোকানে দিনের শেষে টাকা গোনা হয়। কিন্তু গোনা আর মেলানো এক জিনিস নয়। গোনা মানে জানা যে বাক্সে কত আছে; মেলানো মানে জানা যে বাক্সে যা আছে সেটাই থাকার কথা ছিল কিনা।
ফারাকটাই আসল তথ্য। বাক্সে সাত হাজার আছে জানলে আপনি কিছুই জানলেন না। সাত হাজার আছে আর সাত হাজার থাকারই কথা ছিল — এটা জানলে আপনি জানলেন যে দিনটা ঠিকঠাক গেছে।
দশ মিনিটের ক্রম
ক্রমটা রোজ এক রাখুন। যে কাজ প্রতিদিন আলাদা ভাবে হয়, সেটা কিছুদিন পরে আর হয় না।
- 1
বাক্সের টাকা গুনুন
নোট আর খুচরো আলাদা করে গুনুন। সকালে যে টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন সেটা বাদ দিন — সেটা আজকের বিক্রি নয়।
- 2
আজকের বিক্রি দেখুন
অ্যাপে আজকের মোট বিক্রি দেখুন। যেটা ধারে গেছে সেটা বাদ — সে টাকা আজ বাক্সে ঢোকেনি।
- 3
অনলাইনে যা এসেছে বাদ দিন
ইউপিআই বা ফোনে আসা টাকা বাক্সে নেই। সেটা আলাদা করে না রাখলে প্রতিদিন মনে হবে টাকা কম পড়ছে।
- 4
দুটো সংখ্যা মেলান
মিলে গেলে দিন শেষ। না মিললে পরের ধাপ।
- 5
ফারাকটা লিখুন
কত কম বা কত বেশি, আর কী কারণ হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। এক লাইনই যথেষ্ট।
কোন ফারাকগুলো আসলে ভুল নয়
সব ফারাক গণ্ডগোল নয়। কয়েকটা নিছক হিসাবের ধরনের কারণে হয়, আর সেগুলো চিনে নিলে বাকিগুলো নিয়ে ভাবার সময় থাকে।
| ফারাক | সাধারণত কারণ | কী করবেন |
|---|---|---|
| টাকা কম | ধারে দেওয়া বিল নগদ ধরা হয়েছে | বিলটা ধার হিসেবে ঠিক করুন |
| টাকা কম | দোকানের খরচে বাক্স থেকে টাকা গেছে | খরচ হিসেবে লিখুন |
| টাকা বেশি | পুরনো ধার শোধ হয়েছে, লেখা হয়নি | খদ্দেরের খাতায় জমা দিন |
| টাকা বেশি | অনলাইনের টাকা নগদে ধরা হয়েছে | লেনদেনের ধরন ঠিক করুন |
এই চারটে কারণে বেশিরভাগ ফারাক মিটে যায়। যেটা এদের কোনোটাতেই পড়ে না, সেটাই আসলে দেখার জিনিস।
একই ফারাক বারবার এলে
একদিন দুশো টাকা কম হওয়া একটা ঘটনা। প্রতি শনিবার দুশো টাকা কম হওয়া একটা ধারা, আর ধারার একটা কারণ থাকে। শনিবারে ভিড় বেশি, বিল ছাড়া মাল বেরোয় বেশি — এটা চুরি নয়, ব্যবস্থার ফাঁক।
একবারের ফারাক ভুল। বারবারের ফারাক নিয়ম।
শুরু করবেন কীভাবে
প্রথম সপ্তাহে ফারাক আসবেই, এবং সেটাই স্বাভাবিক — আগে কখনো মেলাননি বলে ছোট ভুলগুলো জমে আছে। দ্বিতীয় সপ্তাহে ফারাক কমবে, কারণ আপনি জানেন কোথায় ভুল হচ্ছে। তৃতীয় সপ্তাহে কাজটা দশ মিনিটের বদলে পাঁচ মিনিটের হয়ে যাবে।