Skip to content
Khataby Lacspace
স্টক ও টাকা

দিনের শেষে হিসাব মেলানো: দশ মিনিটের অভ্যাস

ক্যাশবাক্সের টাকা আর খাতার হিসাব এক না হলে সমস্যাটা সেই দিনই ধরা পড়ে। এক সপ্তাহ পরে আর পড়ে না।

6 মিনিটের পড়া

দিন প্রতিবার একইভাবে বন্ধ করুনদিন প্রতিবার একইভাবে বন্ধ করুন৮৪২০ক্যাশবাক্সে৮৪২০লেখা আছেমিলেছে

সংক্ষেপে

  • দিনের শেষে দুটো সংখ্যা মেলান — বাক্সে যা আছে আর খাতায় যা লেখা।
  • ফারাক থাকলে আজই খুঁজুন। কাল সকালে কেউ মনে করতে পারবে না কী হয়েছিল।
  • ছোট ফারাক লিখে রাখুন, ঢাকবেন না। একই ফারাক বারবার এলে সেটাই আসল খবর।
  • কাজটা দশ মিনিটের। রোজ একই সময়ে করলে অভ্যাস হয়ে যায়।

বেশিরভাগ দোকানে দিনের শেষে টাকা গোনা হয়। কিন্তু গোনা আর মেলানো এক জিনিস নয়। গোনা মানে জানা যে বাক্সে কত আছে; মেলানো মানে জানা যে বাক্সে যা আছে সেটাই থাকার কথা ছিল কিনা।

ফারাকটাই আসল তথ্য। বাক্সে সাত হাজার আছে জানলে আপনি কিছুই জানলেন না। সাত হাজার আছে আর সাত হাজার থাকারই কথা ছিল — এটা জানলে আপনি জানলেন যে দিনটা ঠিকঠাক গেছে।

একটা সংখ্যা কিছু বলে না। দুটো সংখ্যা মিললে তবেই দিনটা বন্ধ হয়।দুটি সংখ্যা পাশাপাশি — ক্যাশবাক্সে যা আছে, আর খাতায় যা লেখা।দিন প্রতিবার একইভাবে বন্ধ করুন৮৪২০ক্যাশবাক্সে৮৪২০লেখা আছেমিলেছে
একটা সংখ্যা কিছু বলে না। দুটো সংখ্যা মিললে তবেই দিনটা বন্ধ হয়।

দশ মিনিটের ক্রম

ক্রমটা রোজ এক রাখুন। যে কাজ প্রতিদিন আলাদা ভাবে হয়, সেটা কিছুদিন পরে আর হয় না।

  1. 1

    বাক্সের টাকা গুনুন

    নোট আর খুচরো আলাদা করে গুনুন। সকালে যে টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন সেটা বাদ দিন — সেটা আজকের বিক্রি নয়।

  2. 2

    আজকের বিক্রি দেখুন

    অ্যাপে আজকের মোট বিক্রি দেখুন। যেটা ধারে গেছে সেটা বাদ — সে টাকা আজ বাক্সে ঢোকেনি।

  3. 3

    অনলাইনে যা এসেছে বাদ দিন

    ইউপিআই বা ফোনে আসা টাকা বাক্সে নেই। সেটা আলাদা করে না রাখলে প্রতিদিন মনে হবে টাকা কম পড়ছে।

  4. 4

    দুটো সংখ্যা মেলান

    মিলে গেলে দিন শেষ। না মিললে পরের ধাপ।

  5. 5

    ফারাকটা লিখুন

    কত কম বা কত বেশি, আর কী কারণ হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। এক লাইনই যথেষ্ট।

কোন ফারাকগুলো আসলে ভুল নয়

সব ফারাক গণ্ডগোল নয়। কয়েকটা নিছক হিসাবের ধরনের কারণে হয়, আর সেগুলো চিনে নিলে বাকিগুলো নিয়ে ভাবার সময় থাকে।

ফারাকসাধারণত কারণকী করবেন
টাকা কমধারে দেওয়া বিল নগদ ধরা হয়েছেবিলটা ধার হিসেবে ঠিক করুন
টাকা কমদোকানের খরচে বাক্স থেকে টাকা গেছেখরচ হিসেবে লিখুন
টাকা বেশিপুরনো ধার শোধ হয়েছে, লেখা হয়নিখদ্দেরের খাতায় জমা দিন
টাকা বেশিঅনলাইনের টাকা নগদে ধরা হয়েছেলেনদেনের ধরন ঠিক করুন

এই চারটে কারণে বেশিরভাগ ফারাক মিটে যায়। যেটা এদের কোনোটাতেই পড়ে না, সেটাই আসলে দেখার জিনিস।

একই ফারাক বারবার এলে

একদিন দুশো টাকা কম হওয়া একটা ঘটনা। প্রতি শনিবার দুশো টাকা কম হওয়া একটা ধারা, আর ধারার একটা কারণ থাকে। শনিবারে ভিড় বেশি, বিল ছাড়া মাল বেরোয় বেশি — এটা চুরি নয়, ব্যবস্থার ফাঁক।

একবারের ফারাক ভুল। বারবারের ফারাক নিয়ম।

শুরু করবেন কীভাবে

প্রথম সপ্তাহে ফারাক আসবেই, এবং সেটাই স্বাভাবিক — আগে কখনো মেলাননি বলে ছোট ভুলগুলো জমে আছে। দ্বিতীয় সপ্তাহে ফারাক কমবে, কারণ আপনি জানেন কোথায় ভুল হচ্ছে। তৃতীয় সপ্তাহে কাজটা দশ মিনিটের বদলে পাঁচ মিনিটের হয়ে যাবে।

সাধারণ প্রশ্ন

রোজ মেলানো কি সত্যিই দরকার?

দরকার, কারণ স্মৃতির একটা মেয়াদ আছে। আজ যদি দুশো টাকা কম থাকে, আপনি সাধারণত মনে করতে পারবেন — কার কাছে খুচরো ছিল না, কোন মালটা বিল ছাড়া গেছে। এক সপ্তাহ পরে সেই একই দুশো টাকা শুধু একটা ফারাক, যার কোনো ব্যাখ্যা আর নেই। মাসের শেষে একবার মেলালে আপনি জানবেন যে গণ্ডগোল হয়েছে, কিন্তু কোথায় হয়েছে জানবেন না।

ফারাক পেলে কী করব?

প্রথমে দিনের বড় লেনদেনগুলো দেখুন — ধারে দেওয়া, ফেরত নেওয়া, দোকানের খরচে বাক্স থেকে টাকা তোলা। বেশিরভাগ ফারাক এই তিনটের একটা। না পেলে ফারাকটা লিখে রেখে দিন। এক-দুবারের ছোট ফারাক নিয়ে ঘণ্টা নষ্ট করার মানে নেই; কিন্তু একই ফারাক প্রতি সপ্তাহে এলে সেটা আর ভুল নয়, সেটা একটা ধারা।

কর্মচারী থাকলে কে মেলাবে?

গোনাটা যে বিক্রি করেছে সে করতে পারে, কিন্তু সংখ্যাটা মালিকের চোখে পড়া দরকার। যে গুনছে আর যে হিসাব দেখছে — দুজন আলাদা হলে ভুল ধরা পড়ে, আর সন্দেহও তৈরি হয় না, কারণ নিয়মটা সবার জন্য এক।

খাতা অ্যাপ বিনামূল্যে

বিলিং, ধারের খাতা, স্টক আর রিপোর্ট — সবই আপনার ফোনে। কার্ড লাগে না, বাতিল করার কিছু নেই।

কী কী পাবেন দেখুন

দিনের হিসাবক্যাশদোকানখাতা

এরপর পড়ুন

সব লেখা